জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৭-এ বাংলাদেশি তরুণদের পক্ষ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মিশরে এ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার তরুণদের এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের তরুণদের বক্তব্য তুলে ধরেন জলবায়ু কর্মী ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের ইয়ুথ অ্যাডভোকেট ফারজানা ফারুক ঝুমু।
ইউনিসেফ বাংলাদেশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চলমান কপ-২৭ জলবায়ু সম্মেলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে শিশু ও তরুণরা। তাদের মধ্যে ইউনিসেফের অফিসিয়াল প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য হিসাবে রয়েছেন ফারজানা। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
‘কপ-২৭ ইয়ুথ অ্যান্ড ফিউচার জেনারেশন্স ডে’র কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি ‘অ্যাট দা ফ্রন্টলাইন: চিলড্রেন অ্যান্ড এডোলেসেন্ট লেড অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
ফারজানা বলেন, “আমরা আপনাদের অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছি। এখন সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এখন আমাদেরই সময়। আমি শিশু ও তরুণদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেন তারা তাদের মতামত তুলে ধরে এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আমাদের সাথে যোগদান করে।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বিশ্বে সবচেয়ে কম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলোর মধ্যে থাকার পরও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি শিশু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
“জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দেশের প্রতিটি শিশু বন্যা, নদী ভাঙ্গন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অন্যান্য পরিবেশগত অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে ও শিশুদের পাচার হওয়ার ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে।”
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, “শিশুরা এমন একটি জরুরি অবস্থার সম্মুখীন যা তাদের তৈরি নয়। এখন সময় এসেছে জলবায়ু পরিবর্তনকে শিশু অধিকারের সঙ্কট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার।
“ফারজানা ফারুক ঝুমু ও সারা বিশ্ব থেকে আসা তরুণরা কপ-২৭-এ তাদের মতামত জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। ইউনিসেফ তাদের জরুরি ও অর্থপূর্ণ পদক্ষেপের জন্য যে আহ্বান, তার পাশে আছে।”
ফারজানা ফারুক ঝুমু ২০২২ সালে বাংলাদেশের জন্য ইউনিসেফের ইয়ুথ অ্যাডভোকেট হিসাবে যুক্ত হন। জলবায়ুবিষয়ক কার্যক্রম ও অ্যাডভোকেসি ফোরামে সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি তিনি জলবায়ু সংকটকে শিশু অধিকারের সংকট হিসেবে তুলে ধরতে ২০২১ সালে ‘চিলড্রেনস ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স রিপোর্ট’ প্রকাশে ইউনিসেফের সঙ্গে কাজ করেন।
ইউনিসেফের প্রথম ‘চিলড্রেনস ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স’ (সিসিআরআই ২০২১) অনুসারে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও শিশুদের ওপর প্রভাবের দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের পঞ্চদশ দেশ। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে শিশুরাও।